স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০২:০১, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
আসন্ন আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের ‘বিতর্কিত বিদায়’ বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৯.২ কোটি রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শনিবার (৩ জানুয়ারি) মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া এ সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। তবে বিষয়টি ভারতের ভেতরে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে, যা দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কিছু হামলার ঘটনার পর আরও তীব্র হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল ও সহ-মালিক শাহরুখ খানকে লক্ষ্য করে ভারতের কিছু ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠী সহিংসতার হুমকি ও বয়কটের ডাক দেয়।
মোস্তাফিজকে কলকাতার স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন। ক্রিকবাজকে সুজন বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব দুঃখজনক একটি ঘটনা। সঠিক কারণ আমি জানি না, যদিও রাজনৈতিক বিষয় উঠে এসেছে। মনে হচ্ছে এটি কোনো শক্তি বা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এটা খুবই দুঃখের—বিশেষ করে মুস্তাফিজের জন্য, আর আমাদের সবার জন্য। আমরা কেকেআরে মোস্তাফিজকে খেলতে দেখার অপেক্ষায় ছিলাম, ঠিক যেমনটা সাকিবের (আল হাসান) সময় ছিল।’
ভৌগোলিক নৈকট্য, ভাষাগত মিল ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কারণে বাংলাদেশে নাইট রাইডার্সের বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে, যা এই ঘটনায় প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাবেক এই অধিনায়ক ও কোচ বলেন, ’সাকিব যখন খেলত, আমরা সবাই কেকেআরের সমর্থক হয়ে গিয়েছিলাম; মোস্তাফিজ খেলবে ভেবে আমরা আবারও কেকেআরের সমর্থক ছিলাম। এটা আমাদের জন্য ভীষণ হতাশাজনক, এবং আমরা খুবই বিব্রত।’
এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে যে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ দলের ভারত সফর স্থগিত করতে পারে বিসিসিআই। পাশাপাশি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টাইগারদের নিরাপত্তা নিয়েও দেশে উদ্বেগ বাড়ছে।
জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রাজিন সালেহ বলেন, ’এটা অপমানজনক। এটা মোস্তাফিজুরের জন্য নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অপমান। মোস্তাফিজ বহু বছর আইপিএলে খেলেছে এবং সেখানে নিজেকে বিশ্বের সেরা বোলারদের একজন হিসেবে প্রমাণ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে তাকে ডেকে আবার না নেওয়া—এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অপমান।’
তিনি আরও যোগ করেন, ’শুনেছি নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রয়েছে—তারা নাকি মোস্তাফিজকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারবে না। যদি আইপিএলে একজন খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা দেওয়া না যায়, তাহলে বাংলাদেশ দল যখন বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে, তখন কীভাবে সব খেলোয়াড়কে নিরাপত্তা দেবে? যদি সত্যিই ভারতে নিরাপত্তার সমস্যা থাকে, তাহলে আমি মনে করি ভেন্যু পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া উচিত।’