ঢাকা, বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

২৪ পৌষ ১৪৩২, ১৮ রজব ১৪৪৭

নিখোঁজের তিন দিন পর মিলল শিশু আয়েশা মনির বস্তাবন্ধি লাশ  

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১:০৯, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

নিখোঁজের তিন দিন পর মিলল শিশু আয়েশা মনির বস্তাবন্ধি লাশ  

আয়েশা মনি । ফাইল ছবি

নিখোঁজের তিন দিন পর নিজ বাড়ির রান্নাঘরের এক কোণ থেকে উদ্ধার হলো ১১ বছর বয়সী শিশু আয়েশা মনির লাশ। প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো এই লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোক আর আতঙ্ক। 

গত শুক্রবার বিকেলে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আয়েশা মনি। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর তিন দিন ধরে আয়েশাকে খুঁজতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়, এলাকায় মাইকিং করা হয়, স্বজন ও প্রতিবেশীরা দল বেঁধে খোঁজে নামেন। কোথাও কোনো সূত্র না পেয়ে আশায় বুক বেঁধে দিন গুনছিল পরিবারটি।

কিন্তু সেই অপেক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটে ভয়াবহ বাস্তবতায়। রোববার বেলা ১১টার দিকে থানা পুলিশ তদন্তে এসে তল্লাশি করলে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের এক কোণ থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো  প্লাস্টিকের বস্তায় বন্ধি অবস্থায় আয়েশা মনির নিথর দেহ উদ্ধার করেন পুলিশ।  মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিহত আয়েশা মনি নেতা সালেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আয়েশার মা আসমতারা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে প্রবাসে রয়েছেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, নিজের বাড়ির ভেতর থেকে এভাবে শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনা ভয়ংকর ও রহস্যজনক। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার  ওই শিশুর বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। রবিবার বেলা ১১টায় ঘটনার তদন্ত করতে আসেন পুলিশের একটি টিম।  বাড়ীর চারপাশ খুজেঁ এক পর্যায় খুঁজতে খুঁজতে ঘর থেকে বস্তা বন্ধি অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।  লাশের সুরত হাল সম্পন্ন  করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। 

আরও পড়ুন