শাহরিয়ার মিল্টন , শেরপুর থেকে
প্রকাশ: ০০:৩৭, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি- বাংলার চোখ
শেরপুর জেলার সীমান্তঘেঁষা নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় হিমালয়ের হিমবায়ু আর মৃদু শৈত প্রবাহের কারনে প্রচন্ড শীতের মহড়া চলছে। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
শীতকালের পৌষ মাসের শুরু থেকেই এই তীব্র শীতের দাপট বাড়তে থাকে। বিশেষ করে গত প্রায় ১০-১১ দিন যাবত সারাদিনেও একবারও সুর্য্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। শীতার্ত দরিদ্র অসহায় ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষ কনকনে ঠান্ডায় কাজে যেতে পারছে না। বাড়িতে বসে বেকার সময় কাটাচ্ছেন। দিনের বেলায় তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি আর রাতের বেলায় ৮ থেকে ১০ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা উঠানামা করছে। এমনকি রাতের বেলায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মতো ঘনকুয়াশা পড়ছে।
এদিকে, যেমন তীব্র শীত পড়েছে আরেক দিকে শীতার্ত মানুষ পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে প্রচুর পরিমানে কষ্ট করছেন। কেউবা আবার শীত নিবারনের জন্য ফুটপাতের পুরাতন শীতের কাপড়ের দোকানে ভীড় করছেন। প্রচন্ড শীতে গরম কাপড়ের অভাবে দরিদ্র-অসহায় ছিন্নমুল মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষের কষ্ট বেড়েছে দ্বিগুণ। প্রচন্ড শীতের দাপটে ঠান্ডা-জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বমি ও পাতলা পায়খানাসহ শীতজনিত রোগ দেখা দিচ্ছে শীতার্তদের। বর্তমানে হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অপরদিকে, শৈত প্রবাহের কনকনে ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশার কারনে কৃষক পড়েছেন মহাবিপদে।
শহরের চেয়ে গ্রামগঞ্জে চলছে অনবরত শীতের মহড়া। শীতার্ত মানুষ গরম কাপড় না পেয়ে কেউ পুরাতন শীতের কাপড়ের দোকানে ভীড় করছেন। শীতের কবল থেকে বাঁচতে খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন দরিদ্ররা। সারাদিন সুর্য্যের দেখা না মেলায় চলমান বোরো আবাদের বীজতলা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক বীজতলা সাদা হয়ে মরে যাচ্ছে। এতে বোরো আবাদ নিয়ে মহা চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তীব্র শীতের দাপটে বাদ পড়ছে না গৃহপালিত পশুপাখি। কৃষকরা চটের বস্তা গায়ে পড়িয়ে গবাদি পশুকে শীতের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, বেশ কিছু দিন যাবত একদমই রোদ উঠে না। আমি ৮ কেজি হাইব্রিড জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করেছি। আমার বীজতলা ঠান্ডার কারনে সাদা সাদা হয়ে যাচ্ছে, বেড়ে উঠছে না। বোরো ধান লাগানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
নালিতাবাড়ী উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মো. রাশিদুজ্জামান ইমরান বলেন, মৃদু শৈত প্রবাহ ও ঘনকুয়াশার কারনে বোরো আবাদে কৃষকের বীজতলার বেশ ক্ষতি হচ্ছে। এজন্য আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বীজতলায় ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া বিকেল বেলায় পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরদিন সকালে বীজতলা থেকে পানি বের করে দিতে বলা হচ্ছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজুয়ানা আফরিন বলেন, সরকারিভাবে ২ হাজার ৬৬০ টি শীতের কম্বল পেয়েছি। এরমধ্যে ১২ টি ইউনিয়নে ১৮০ টি করে, পৌরসভায় ৮০টি ও স্থানীয়ভাবে ৫০০ টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার কারনে আরো কম্বল বরাদ্দের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।