মোঃ দিলদার হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) থেকে
প্রকাশ: ০০:৪২, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি-বাংলার চোখ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশায়র কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা হলুদ ও বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। বীজতলা বাঁচাতে অনেক কৃষক তাদের বীজতলা পলিথিনে ঢেকে দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তারপরও তেমন কোন লাভ না হওয়ায় কৃষকরা তাদের ইরি বোরো বীজতলা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, গত আমন মৌসুমের ধান কাটার আগ মুহূর্তে বৈরী আবহাওয়ার কারনে ধানের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকেরা অনেক আশা নিয়ে চলতি বোরো চাষাবাদ মৌসুমে ধান রোপণের জন্য বীজতলা তৈরী করেছেন। কিন্তুু গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলার গজানো চারাগুলো হলুদ ও সাদা বর্ণ ধারণ করে পাতা গুটিয়ে মরে যাচ্ছে। কৃষকরা বিভিন্ন ভাবে চারা গুলো রক্ষার চেষ্টা করলেও চারা গুলো রক্ষা করতে পারছেন না বলে জানান তারা।
এদিকে চলতি মাসে আরো শৈত্য প্রবাহের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় কৃষকেরা হতাশায় ভুগছেন ।
উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ার গ্রামের কৃষক হাফিজার রহমান বলেন, ঠান্ডা আর কুয়াশায় বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েও কাজ হচ্ছে না। ইরি আবাদ হবে কি না আল্লাহই জানেন।
উপজেলার বয়রা গ্রামের কৃষক সমসের আলী জানান, চলতি মৌসুমে ৬ একর জমিতে ইরি-বোরো চাষের জন্য ৬০ কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তীব্র শীত আর কুয়াশায় সম্পূর্ণ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে আবারও বীজতলা তৈরি করেছেন। আবারও বৈরী আবহাওয়ায় বীজতলার চারা নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে ইরি আবাদ নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায, চলতি মৌসুমে উপজেলার পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৯শ ৬ হেক্টর জমিতে ইরি- বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী উপজেলায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো বীজতলা তৈরি করা হওয়ার কথা। এ পর্যন্ত সাড়ে ৪শ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন বলেন বৈরী আবহাওয়া থাকার কারণে কৃষি বিভাগ থেকে বীজতলা সুরক্ষার জন্য কৃষকদের পলিথিন কাগজ দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরামর্শ হচ্ছে। এরপরও যদি বীজতলার চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করে তাহলে প্রথমে ইউরিয়া সার এবং পরে জিপসাম ও গোড়া পচন দেখা দিলে স্প্রে করার পরামর্শ দেন তিনি।