প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩:৩৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরে তুরাগ নদীর পাড় দিয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়কের বড় অংশে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নবনির্মিত সড়কটির উল্লেখযোগ্য অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটির সমন্বয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, মহানগরীর কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটি নির্মাণ করছিল ‘ইউসিসিএল’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির দুটি প্যাকেজের আওতায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।
এর মধ্যে প্যাকেজ নম্বর ১২-এর ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়কের কার্যাদেশ মূল্য ছিল ১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং প্যাকেজ নম্বর ৫-এর আওতায় ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়কের কাজে প্রায় ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। প্রকল্পের আওতায় বিটুমিনাস কার্পেটিং ছাড়াও ফুটপাত, রেলিং ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম হারুনুর রশীদ জানান, প্রাকৃতিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে কাজ আরও মানসম্মত করা হবে।
কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, নদীপাড়ের এলাকায় নির্মাণকাজে স্বাভাবিকভাবেই কিছু ঝুঁকি থাকে, তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি প্রাকৃতিক ভূমিধস বলে মনে হলেও এর পূর্ণাঙ্গ কারিগরি বিশ্লেষণের জন্য বুয়েট অথবা ডুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে সড়কটি মেরামত ও শক্তিশালী করা হবে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী জানান, অবকাঠামো নির্মাণে গুণগত মান ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নদীপাড়ের ভৌগোলিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নকশা ও নির্মাণ পদ্ধতিতে সংশোধন এনে সড়কটি আরও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।