চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০০:৩৭, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বামীর কথা অমান্য করে জামায়াতের নির্বাচনী প্রতিক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার অভিযোগে তারাফুল খাতুন নামে এক গৃহবধূকে ‘তালাক’ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) এ ঘটনা ঘটলেও রবিবার বিকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার শিবগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের শেখটোলা তর্তিপুর রোড এলাকার বাসিন্দা সৈবুর রহমান স্থানীয় বিএনপির এক কর্মী। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈবুর তার স্ত্রী তারাফুল খাতুনকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল-বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে বলেন। কিন্তু তারাফুল খাতুন 'আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো' শ্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের পচ্ছন্দের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেন। এ কথা জানতে পেরে ওই দিনই সৈবুর তার স্ত্রীকে তালাক দেন। এতে দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারী) বিকালে বিষয়টি নিয়ে তারাফুল খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার স্বামী বিএনপি করেন। ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সময় তিনি ধানের শীষে ভোট দিতে বলে আমাকে বলেন ‘সব ঠিক থাকে যেন’। কিন্তু আমি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে এসেছি। আমি আগেও জামায়াতে বিভিন্ন প্রোগ্রামে গেছি, যা আমার স্বামীও জানতেন। কিন্তু মানুষজনের কথা শুনে তিনি আমাকে তালাক দিয়েছেন।
তারাফুলের ছেলে তারিফ হোসেন বলেন, আমরা এখন আমার ফুফুর বাড়িতে আছি। মাকে তালাক দেয়ার পর আমার বাবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে ভুল স্বীকার করেন। কিন্তু আমার মা আর বাবার সংসারে ফিরে যেতে চাননা।
তারাফুলের স্বামী সৈবুর রহমান বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। রাগের মাথায় বউকে তালাক দিয়ে দিয়েছি। এখন লোক লাগিয়েছি তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য।
এ নিয়ে জামায়াতের শিবগঞ্জ পৌর নায়েবে আমীর আব্দুল আজিজ মাহমুদ বলেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার জন্য যেহেতু তারাফুল খাতুনকে তালাক দেয়া হয়েছে সেহেতু দল তার সকল প্রয়োজনে পাশে থাকবে।