ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৩ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৭ শা'বান ১৪৪৭

ধর্মমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রফিকুল ইসলাম জামাল

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০০:৪৩, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ধর্মমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রফিকুল ইসলাম জামাল

রফিকুল ইসলাম জামাল I ফাইল ছবি

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহি কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ঝালকাঠি-১ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। 
দেশের ধর্মীয় অঙ্গনে স্থিতিশীলতা রক্ষা, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সরকারের কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরিতে একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় খাতে সমন্বয়, সংস্কার ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলতে দক্ষ নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি। জামাল ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর সারাদেশে জাতীয়তাবাদী ওলামাদলকে সাংগঠিত করতে সারা বাংলাদেশ চষে বেড়িয়েছেন।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামালের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে আলেম-ওলামাদের একটি অংশ তাকে আগামী সরকারের ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম জামাল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুঃসময়ে কারাবরণ এবং রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে কওমি, আলিয়া ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দলের সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে তিনি পর্দার আড়ালে ওলামা দলের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আলেম সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের ধর্মবিষয়ক উইং পরিচালনা করায় দেশের ধর্মীয় কাঠামো, বিভিন্ন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান এবং আলেমদের দাবি-দাওয়া সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা রয়েছে। বরিশাল ও ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। ঝালকাঠি-১ আসন থেকে তার রাজনৈতিক উত্থান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ তাকে জনবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মত দেওয়া হয়।

বিএনপির ওলামা দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যেখানে আবেগ ও প্রজ্ঞার সমন্বয় প্রয়োজন। তাদের মতে, রফিকুল ইসলাম জামাল একজন সুশিক্ষিত ও মার্জিত ব্যক্তিত্ব; তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে আলেম সমাজের দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যার সমাধান হতে পারে এবং সরকার–আলেম সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সমর্থকরা তাকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, ধর্মীয় অঙ্গনে শৃঙ্খলা ও সমন্বয় আনতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব অপরিহার্য। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত কে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জনআকাঙ্ক্ষা ও আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে দলের নীতিনির্ধারকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, দলের  চেয়ারম্যান ইচ্ছে করলে আমাকে দিতে পারেন। আমি কোন কিছুই চেয়ে নেইনি। দল আমাকে ভরসা করেছে, আমি নির্বাচিত হয়ে আসন উপহার দিয়েছি।
 

আরও পড়ুন