প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১:৩৬, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নিখোঁজের দুই দিন পর নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দা থেকে পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রী আয়শার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর একদিনের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য বলছে, নিজের মেয়ের ওপর এমন বর্বরতার ঘটনা খুবই বিরল। বাবার নির্দেশেই আয়েশাকে গলাটিপে মারেন চাচা। করা হয়েছে ধর্ষণও।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদা (৪৮) ও চাচা রুবেল প্যাদা (৩৫)। একই দিন আয়েশার বোন সাথী আক্তার বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় রুবেল প্যাদাকে।
আদালতে ১৬৪ ধারায় রুবেল প্যাদার জবানবন্দির বরাতে পুলিশ জানতে পারে, নিহত আয়েশার সমবয়সী এক মেয়ের সঙ্গে তার বাবা বাবুলের নিয়মিত অবৈধ সম্পর্ক ছিলো। বিষয়টি আয়েশা জানতে পেরে বোন ও প্রবাসী মাকে জানায়। এতে পরিবারে কলহ সৃষ্টি হয়। বাবুল নিজের সম্মান বাঁচাতে মেয়ে আয়েশাকে মেরে ফেলতে চাচতো ভাই রুবেল প্যাদাকে নির্দেশ দেন। বাস্তবায়নে আর্থিক বিষয়টিও মিটমাট হয়। টাকার বিনিময়ে সেই অনুযায়ী শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটায় বাবুল প্যাদার সাহায্য নিয়ে রুবেল ঘরে ঢুকে আয়েশাকে গলাটিপে হত্যা করেন। পরে বস্তাবন্দী করে লাশ রান্নাঘরের বারান্দায় রেখে যান।
এদিকে মেয়ে নিখোঁজ বলে ওই দিন বিকেল থেকে আয়েশা খোঁজ শুরু হয়। পরের দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গাবালী থানায় বাবা বাবুল একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন। কিন্তু এই নাটক বেশিক্ষণ চলেনি। পুলিশের কানে খবর যেতেই নিজ বাড়ির রান্নাঘরের সামনে থেকে বস্তাবন্দী আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ওইদিন সন্ধ্যায় থানা হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরমধ্যে রুবেল প্যাদা হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরদিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল তিনটায় তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পরে আদালত রুবেল প্যাদাকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল প্যাদা হত্যার আগে আয়েশাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি কেবল হত্যার দায় স্বীকার করেন।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হুকুমের আসামি হিসেবে আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান পুলিশ।
এমন ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। ইতিমধ্যে দেশজুড়েও বইছে সমালোচনার ঝড়। এলাকাবাসী চান, এমন হত্যার ঘটনায় জড়িতদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক। তারা বলেন, এই ঘটনা শুধু একটি কন্যা শিশুর গলাটিপে দেওয়া নয়, এটা একটি জাতির গলাটিপে হত্যার সামিল। নারী ও শিশুদের জন্য এমন ভয়ানক অভিজ্ঞতা মানুষের পক্ষে কাম্য নয়।
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় থানার পুরো টিম এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করেছে।