আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:৪৫, ১৮ মার্চ ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
ইরান প্রায় এক দশক ধরে পশ্চিমা অর্থনীতি এবং বিমা ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ছায়া বহর বা তেলবাহী ট্যাংকার তৈরি করেছে। সেটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতেও সাহায্য করেছে। এখন এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করছে, যেখানে আবার তাদের পশ্চিমা সহযাত্রী জাহাজগুলো চলাচল করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্র যখন তার বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ইরান এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলোকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করেছিল, ইরান এখন ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে সেই একই কাজ করছে। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে উপসাগরীয় এলাকায় অন্তত ১৭টি জাহাজ ইরান আক্রমণ করেছে। হরমুজ প্রণালী পার করতে চাওয়া পশ্চিমা শিপিং কোম্পানিগুলো এখন আকাশচুম্বী বিমা প্রিমিয়াম দিতেও বাধ্য।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান প্রতিদিন ১.০২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে, যার বেশিরভাগই চীনকে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইরান গত বছর গড়ে ১.৬৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল। ইরানের ছায়া বহর আরও স্বাধীনভাবে তেল পরিবহণ করতে সক্ষম হওয়ায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৮ সালে ইরান তার ছায়া বহর গড়ে তোলে, যখন যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তখন থেকেই ইরান তার তেল শিল্পের ওপর কেন্দ্রিত নিষেধাজ্ঞাগুলোর মোকাবিলা করতে থাকে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান, ভারত এবং চীনও হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদভাবে তেল পরিবহণ করতে চাচ্ছে। পাকিস্তান-অধিকৃত ‘করাচি’ নামক একটি জাহাজ, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল বহন করছে, এই সপ্তাহে প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালী পার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে। তারা বলছেন, ‘এটা বিশ্বের সমুদ্রপথে নতুন শক্তি বিন্যাসের সূচনা হতে পারে।’
সূত্র: মিডল ইস্ট আই