ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২:০৬, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
.
আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশ থেকে আগত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়া বাবদ খরচ বহনের সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক দূর্নীতিবিরোধী সংস্থা- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবি বলছে, বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংসকারী কর্তৃত্ববাদী চর্চা অব্যাহত রেখে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার ব্যয়ভাব বহনের যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করেছে, তা অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ পরিপন্থী। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সরব উপস্থিতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ঠুনকো যুক্তিতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহনের নির্বাচন কমিশনের অবিমৃশ্যকারী সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হতে বাধ্য। অধিকন্তু এ সিদ্ধান্ত যে বৈষম্যমূলক, নির্বাচন কমিশন তা অনুধাবন করতে না পারায়, আমরা বিস্মিত হয়েছি।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করতে পারলে দেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কেন প্রযোজ্য হবে না? এ প্রশ্নের জবাব নির্বাচন কমিশন কীভাবে দেবে। তা ছাড়া, এ সিদ্ধান্ত বলবৎ হলে একদিকে সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তগণ ভাড়াটে হিসেবে পরিগণিত হওয়ার যেমন ঝুঁকিতে থাকবেন, অন্যদিকে তারা নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তায় স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত থেকে কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম হবেন, সে ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। মনে রাখতে হবে পর্যবেক্ষকগণ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও মূল্যায়ন করবে। এ কাজটি কমিশনেরই আতিথেয়তায় কতটুকু নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত হয়ে করতে পারবে এ প্রশ্ন থেকেই যাবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিকট আমাদের জিজ্ঞাসা, তারা কোন যুক্তিতে ইসি বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ ধরনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চাইবেন? তারা কী নৈতিকতার মানদ- ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিবেচনায় এরূপ আতিথেয়তা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন তথা সার্বিকভাবে নির্বাচনের বস্তুনিষ্ঠ, নির্মোহ, পক্ষপাতহীন ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে পারবেন? আমরা আশা করি তারা ইসির এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন এবং তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
টিআইবি বলছে, ২০০৮ বা তার পূর্বে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করার এই প্রচেষ্টার দরকার হয়নি, অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালে বিদেশিদের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রয়োজন কেন হয়েছিলো, নির্বাচন কমশিনকে সর্বপ্রথম এ বিষয়ে আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পতিত সরকারের প্রচেষ্টা কতটুকু সার্থক হয়েছিলো, আশা করছি বর্তমান নির্বাচন কমিশন তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থতার পরিচয় দেবে না। একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে জনমনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার যে বিশাল আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, তা বিতর্কিত করার পথ থেকে ইসি সরে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।