ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

২৬ পৌষ ১৪৩২, ২০ রজব ১৪৪৭

সিলেটকে হারিয়ে মাঠ ছাড়লো চট্টগ্রাম

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩:০২, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

সিলেটকে হারিয়ে মাঠ ছাড়লো চট্টগ্রাম

সিলেটক টাইটান্সকে ১৪ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ছবি: সংগৃহীত

 সিলেট টাইটান্সের বোলারদের তুলাধুনা করে ১৯৮ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বন্দরনগরীর দলটি। জবাব দিতে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি সিলেট। ২ বল বাকি থাকতে ১৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। আর তাতেই ১৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চট্টগ্রাম। এই জয়ে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলো দলটি।

প্রতিশোধ নেয়ার ভালো একটা সুযোগ অবশ্য এসেছিল সিলেট টাইটান্সের সামনে। তবে সে আর হলো কোথায়, উল্টো ব্যাটিং ব্যর্থতায় আবারও চট্টগ্রামের বিপক্ষে হারলো সিলেট। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৯ উইকেটে হেরেছিল তারা। 

 বুধবার (৭ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করে চট্টগ্রাম। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে ৪ রানের মাথায় ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের উইকেট হারায় সিলেট। আবু হায়দার রনির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪ বলে ২ রান। 
 
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তৌফিক খানের সঙ্গে ৪০ রান যোগ করেন আফিফ হোসেন। ১৯ বলে ২৩ করে তৌফিক ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি। উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন রনি তালুকদার। প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন রনি। 
 
সুবিধা করতে পারেননি মঈন আলীও। ১১ বলে ১৩ রান করে ফিরেছেন হাসান নাওয়াজের বলে বোল্ড হয়ে। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে একাই এগিয়ে চেষ্টা করেছেন আফিফ হোসেন। ৩৩ বলে ৪৬ রান করা বাঁহাতি এই ব্যাটারকে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান তানভির ইসলাম। 
 
আজমতউল্লাহ ওমরজাই চেষ্টা করেও পারেননি নিজের ইনিংস বড় করতে। ১৪ বলে ২০ করা এই ব্যাটারকে হাসান নাওয়াজের ক্যাচ বানান আমের জামাল। ইথান ব্রুকসকে রসিংটনের ক্যাচ বানান শরিফুল ইসলাম। ফেরার আগে ১০ বলে ২০ রান করেন এই ব্যাটার। নাসুম ফিরেছেন কোনো রা না করেই। 
 
শেষ দিকে খালেদের ৯ বলে ২৫ রান কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২ বল বাকি থাকতে ১৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায় সিলেট টাইটান্স। চট্টগ্রামের হয়ে আমের জামাল ৪টি ও শরিফুল নিয়েছেন ২টি উইকেট। এছাড়া আবু হায়দার রনি ও হাসান নাওয়াজ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।   
 
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাট করেছে তারা। ১৫ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় মোহাম্মদ নাঈম আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়েন অ্যাডাম রসটন ও মাহমুদুল হাসান জয়। দ্রুত দলকে শতরানের কাছে পৌঁছে দিলেও দুজনই ফিফটি মিসের আক্ষেপে পুড়েন। ২১ বলে ৪ ছক্কা ও ৩ চারের মারে ৪৪ রান করে আউট হন জয়। আর ৩৮ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ রান করে আউট হন ইংলিশ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। 
 
তাদের বিদায়ের পর রানের গতি সচল রাখেন হাসান নাওয়াজ ও আসিফ আলী। যদিও তার বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি। ৮ বলে ২ চারের মারে ১৩ রান করে আসিফ আর ২০ বলে ২ ছক্কা ও ১ চারের মারে ২৫ রান করে আউট হন হাসান। শেষদিকে আমের জামালকে একপ্রান্ত রেখে ঝড় তোলেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ১৩ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় শেষ পর্যন্ত ৩৩ রানে অপরাজি থাকেন তিনি। জামাল ৫ বলে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাতে দল পায় আসরের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এবারের আসরে উদ্বোধনী ম্যাচে ১৯০ রান করেছিল সিলেট। জবাব দিতে নেমে ১৯২ রান তুলেছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। যা ছিল এতদিন আসরের সর্বোচ্চ। ১৬তম ম্যাচে গিয়ে যেটা দখলে নিলো চট্টগ্রাম। 
 
সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়ে ৪১ রান খরচ করেন রুয়েল। তবে সবচেয়ে খরুচে থেকে উইকেটশূন্য ছিলেন খালেদ আহমেদ। ৪ ওভারে ৫৫ রান দেন তিনি। সতীর্থদের বাজে দিনে বল হাতে মিতব্যয়ী ছিলেন মঈন আলী। ২৩ রান দিয়ে তিনি ১ উইকেট নেন। নাসুম আহমেদ ২৪ রান দিলেও উইকেটশূন্য ছিলেন। ওমরজাই ১ উইকেট নিতে খরচ করেন ৪৭ রান।
 

আরও পড়ুন