ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

২৮ পৌষ ১৪৩২, ২২ রজব ১৪৪৭

ফরিদপুরে উদ্ধার বোমাটি শক্তিশালী আইইডি, ২৪ ঘণ্টা পর নিষ্ক্রিয়

প্র্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪:৪৯, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

ফরিদপুরে উদ্ধার বোমাটি শক্তিশালী আইইডি, ২৪ ঘণ্টা পর নিষ্ক্রিয়

ছবি :সংগৃহীত

ফরিদপুরে উদ্ধার বোমাটি উন্নত বিস্ফোরক ডিভাইস যুক্ত (আইইডি) শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বোমাটি দূর থেকে রিমোর্টের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ছিল।

বোমাটি উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পর রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় শহরের গোয়ালচামট প্রতিমা বিসর্জন ঘাটে বিশেষ ব্যবস্থায় সেটি নিষ্ক্রিয় করে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজালের সদস্যরা।

পরে বিষয়টি সাংবাদিকদের অবগত করেন ঢাকা থেকে আসা পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজালের পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ।

তিনি বলেন, ‘বোমাটি শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস অর্থাৎ উন্নত বিস্ফোরক ডিভাইস) এবং রিমোর্ট কন্ট্রোল। এটি সাধারণ বোমা থেকে শক্তিশালী এবং আমরা নিষ্ক্রিয় করতে পেরেছি।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, বোমাটি নিষ্ক্রিয়করণে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের দশজন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। প্রথমে তারা বিশেষ নিরাপত্তা পোশাক পরিধান করে বালুর বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা বোমাটির কাছে গিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এছাড়া বুলেটপ্রুফ সরঞ্জাম দিয়ে সেটি ঢেকে রাখেন। এরপর প্রায় ১০০ মিটার দূর থেকে বৈদ্যুতিক তারযুক্তযন্ত্রের মাধ্যমে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটান। এ সময় বিকট শব্দে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় ধোয়া ও প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতায় স্প্লিনটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিটকে যায়। পরে তারা আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

বোমাটির কার্যক্ষমতা ও অন্যান্য উদ্ধার বোমার পার্থক্য তুলে ধরে নিষ্ক্রিয়করণে অংশগ্রহণ করা ইউনিটটির উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত শরিয়তপুরসহ চারটি জায়গায় বোমা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। সেসব বোমা থেকে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শরিয়তপুরে উদ্ধার বোমায় যেসব দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছে, তার থেকে এটিতে উন্নত ও শক্তিশালী দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রাণঘাতী বোমা এবং দূর থেকে কন্ট্রোলিং ক্যাপাসিটি রয়েছে।’

এর আগে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকা ও প্রধান সড়কের আলীপুর আলীমুজ্জামান সেতুর পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তে একটি নীল রংয়ের ব্যাগের ভেতরে রাখা বোমা আছে সন্দেহে ব্যাগের চারপাশে ঘিরে রাখে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা শেষে দুপুর ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ একজন সদস্য সেটি উদ্ধার করে। এবং পরে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে সেতুটির নিচে বালুর বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এরপর রাতভর সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিকভাবে সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যে বা যারা এটি রেখেছে তাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন