প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯:৪৪, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে সংঘর্ষের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ৫০ জনের বেশি এবং এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজারে কক্সবাজারের হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে আসা রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর এসব সদস্যরা এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। যেখান থেকে বিজিবি তাদের হেফাজতে নিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও বিজিবি।
সকাল ৯টায় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের জেরে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র।
তবে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে তিনি জানান, শিশুটি এখনও বেঁচে আসে। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। শিশু আফনান (৭) একই এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, রোববার সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকা সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্টি আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্টির মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে দুইপক্ষের মধ্যে অন্তত ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির হয়। এক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্টির সদস্যরা সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে পিছু হটে অবস্থান নেয়। এতে সকাল ৯টার দিকে আবারও উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এ সময় মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলি সীমান্তে বাংলাদেশি এক বসত ঘরে আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। শুরুর দিকে শিশুটি মারা গেছে বলে সব দিকে প্রচার শুরু হয়। শিশুটির পিতা-মাতাও বুঝতে না পেরে শিশুটির মৃত্যু সংবাদ প্রচার করে। পরে দেখা গেছে শিশুটি বেঁচে আছে। তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল থেকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, দুপুরের দিকে ওপারের সংঘর্ষে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫০ জনের বেশি সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এ সময় বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা তাদের হেফাজতে নিয়ে আসে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হওয়ার পর আশংকাজনক হওয়ায় মারা গেছে বলে প্রচার হয়। এতে স্থানীয় লোকজন সড়ক অবরোধ করেছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ জনপ্রতিনিধি পরিস্থিতি শান্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে শিশুটি মারা যায়নি। তাকে আশংকাজনক চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পালিয়ে আসা ৪৯ জন এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। বিজিবি তাদের হেফাজতে নিয়ে যাবে।