শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর
প্রকাশ: ২৩:৩১, ১৯ মার্চ ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
প্রকৃতি আর মনোরম সৌন্দর্যে ঘেরা শেরপুরের গারো পাহাড়। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পর্যটক বরণে প্রস্তুত এখানকার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। সীমান্ত ঘেঁষা বিস্তৃত এই পাহাড়ি এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ বনভূমি ও নান্দনিক পর্যটনকেন্দ্রের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
গারো পাহাড় এলাকায় রয়েছে জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গজনী অবকাশকেন্দ্র ও মধুটিলা ইকোপার্ক। এ ছাড়া পানিহাটা ও রাজার পাহাড়ও পর্যটকদের কাছে বেশ পরিচিত দর্শনীয় স্থান। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে আসেন এই পাহাড়ি এলাকায়। শীত মওসুম, ঈদ কিংবা বিভিন্ন ছুটির দিনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে এ অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।
ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যে গারো পাহাড়ের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধোয়া-মোছা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙের কাজ শেষ করে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন আয়োজন। রমজান মাসের কারণে এক মাস ধরে এসব পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে ঈদের ছুটি শুরু হলে আবারও পর্যটকের ঢল নামবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাহাড়ের মনোরম পরিবেশ, শীতল বাতাস ও সবুজ প্রকৃতির টানে এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে ভিড় করবেন ।
গজনী অবকাশ পর্যটনকেন্দ্রটি গারো পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণ। এখানে রয়েছে ভাসমান সেতু, ওয়াটার পার্ক, ওয়াটার কিংডম, প্যারাডোবা, ঝুলন্ত ব্রিজ, রোপওয়ে, জিপলাইনার, ক্যাবল কার, প্যাডেল বোট, সাম্পান নৌকা, আলোকের ঝরণাধারা, মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্কসহ নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা। এ ছাড়া ওয়ার্চ টাওয়ারে উঠে সীমান্তের পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে মধুটিলা ইকোপার্কও গারো পাহাড় অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এখানে রয়েছে স্টার ব্রিজ, ওয়াচ টাওয়ার, প্যাডেল বোট, ঝরনা, মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্ক। পাশাপাশি সুউচ্চ টিলায় ওঠার জন্য নির্মিত দীর্ঘ সিঁড়ি পর্যটকদের কাছে বাড়তি রোমাঞ্চের সৃষ্টি করে। টিলার চূড়ায় উঠে চারপাশের সবুজ পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করা যায়, যা দর্শনার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। এ ছাড়া গারো পাহাড়ের পানিহাটা ও রাজার পাহাড় এলাকায় রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পরিবেশ, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। পাহাড়ি বন, নীরব পরিবেশ ও শীতল আবহাওয়ার কারণে এসব এলাকায় ভ্রমণ করতে আসা মানুষ প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ পান।
স্থানীয় দর্শনার্থী মো. নিরব মিয়া বলেন, রমজানের সময় এখানে তেমন কেউ আসেনি। তবে প্রতি ঈদেই প্রচুর দর্শনার্থী আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করছি। স্থানীয় ফটোগ্রাফার রায়হান বলেন, আমরা এখানে ছবি তুলে যা আয় করি তা দিয়েই সংসার চালাই। রমজানে তেমন লোকজন ছিল না। তবে ঈদের সময় প্রচুর দর্শনার্থী আসবে, তখন আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে।
গজনী বোটক্লাবের ইজারাদার এরশাদ হোসেন বলেন, শীত মওসুম পর্যটকের সংখ্যা বেশ ভালো ছিল। কিন্তু রমজান মাসে সাধারণত মানুষ ঘোরাঘুরি কম করায় গত এক মাস দর্শনার্থী কম এসেছেন। এতে কিছুটা ব্যবসায়িক ঘাটতি হয়েছে। তবে ঈদের ছুটিতে আবার পর্যটকের চাপ বাড়বে বলে আশা করছি। সে অনুযায়ী সব রাইড নতুন করে রং করা হয়েছে এবং পর্যটকদের নিরাপদে বিনোদনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গজনী অবকাশ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন বলেন, রমজান মাসে সাধারণত পর্যটকের সংখ্যা কম থাকে। তবে ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তাই ব্যবসায়ীরা নতুন মালামাল আনছেন এবং বিভিন্ন রাইড ও বিনোদন ব্যবস্থাগুলো নতুনভাবে সাজিয়ে তুলছেন। ঈদ উপলক্ষে ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তারা।
শেরপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঈদ উপলক্ষে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও অন্যান্য সুবিধা।
শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাকিল আহম্মেদ বলেন, শেরপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হলো গজনী অবকাশ কেন্দ্র। ঈদকে সামনে রেখে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিবছর ঈদে এখানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে। এবারও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।