ঢাকা, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

৩০ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৫ রমজান ১৪৪৭

শেরপুর মাইসাহেবা মসজিদে প্রতিদিন ৬ শতাধিক রোজাদারের ইফতার

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর

প্রকাশ: ১৯:৫৩, ১৪ মার্চ ২০২৬

শেরপুর মাইসাহেবা মসজিদে প্রতিদিন ৬ শতাধিক রোজাদারের ইফতার

ছবি :সংগৃহীত

গত প্রায় একযুগ ধরে শেরপুর জেলা সদরে প্রথম প্রতিষ্ঠিত মাইসাহেবা জামে মসজিদে রমজান মাসে প্রতিদিন রোজাদারদের জন্য আয়োজন করে আসছে ইফতারের । প্রথমে  ২৫ থেকে ৩০ জন রোজাদারকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এ উদ্যোগ । বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ শতাধিকে। ইফতারের সময় ওই মসজিদ প্রাঙ্গণে বসে মিলনমেলা। যেখানে ধনী-গরিব বিভিন্ন পেশার মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। কখনও কখনও এ সংখ্যা আটশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। এখানে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, দিনমজুর, আইনজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অটোরিকশা চালক, ভিক্ষুক, পথচারী, সাংবাদিক, ফকির-মিসকিনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে বসে ইফতার সারেন। ইফতারে যোগ দেন মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ মসজিদ কমিটির সদস্যরাও।
ইফতার রান্না ও অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য মসজিদ প্রাঙ্গনে একটি রান্নাঘর স্থাপন করা হয়েছে। রমজান মাসজুড়ে এ মসজিদে প্রতিদিন ইফতারের জন্য খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ২ জন বাবুর্চিসহ ৩ জন সাহায্যকারী বড় বড় হাঁড়িতে প্রায় ৬০ কেজি চালের খিচুড়ি রান্না করেন। সঙ্গে থাকে পেঁয়াজু, ছোলাভুনা, খেজুর, মুড়ি ও অন্যান্য খাবার। মসজিদের দোতলার বিশাল

জায়গায় এ ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইফতারের আগে রোজাদাররা সারিবদ্ধভাবে বিশুদ্ধ পানির বোতল নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। এরপর ইফতার সামগ্রী দিয়ে সাজানো থালা হাতে নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে বসে পড়েন।
বাবুর্চি আবুল কালাম আজাদ জানান, ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা মসজিদে প্রায় এক যুগ ধরে রোজাদারদের জন্য ইফতার তৈরির কাজ করে আসছি।

স্থানীয় রোজাদাররা জানান, ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদে প্রতিদিন প্রায় ৬ শতাধিক মানুষের জন্য ইফতার তৈরি করা হয় । এখানে ইফতার করে তৃপ্তি পাওয়া যায়। ইফতার খেতে খুবই সুস্বাদু।

মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মনিরুল হক জানান, এখানে ধনী- গরীব সকল পেশার মানুষ ইফতার করতে আসেন।
মাইসাহেবা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি আকরাম হোসেন শেরপুরী জানান, প্রায় এক যুগ আগে ২৫ থেকে ৩০ জন রোজাদারকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এ উদ্যোগ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা বেড়ে এখন প্রতিদিন প্রায় ৬ শতাধিক মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। মসজিদের মূল কমিটির অধীনে ৩১ সদস্যের ‘ইফতার আয়োজন উপকমিটি’ এ কর্মসূচি পরিচালনা করে। সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়ন ও সমাজের বিত্তশালীদের অনুদানে চলে মাসব্যাপী এই আয়োজন। কেউ দেন চাল, কেউ ছোলা, কেউ খেজুর বা নগদ অর্থ।

মাইসাহেবা জামে মসজিদ কমিটির সহকারী কোষাধ্যক্ষ ও ইফতার পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ঈমান আলী হিরা জানান, মসজিদের মুসল্লিদের অনুপ্রেরণায় ও শেরপুরের বিভিন্ন বিত্তশালী ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আমরা রমজান মাসকে উদযাপন করার জন্য ধনী-গরিব একসঙ্গে বসে ইফতার করার আয়োজন করে থাকি।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল আওয়াল চৌধুরী জানান, মসজিদটির বয়স প্রায় আড়াইশো বছর হলেও সম্প্রতি এর পুরনো আদল ভেঙে নতুন করে আধুনিক স্থাপত্য কলায় নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় এক যুগ আগে এখানে প্রতিদিনের ইফতারের আয়োজন শুরু করা হয়।
ইফতারের আগে রোজা কবুলের জন্য এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। রোজার এই সংযমের শিক্ষা যেন প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় এবং সমাজের সর্বস্তরে এমন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন যেন চির অটুট থাকে ।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন