আলমগীর মানিক,রাঙামাটি
প্রকাশ: ১৭:৪১, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কাপ্তাই হ্রদ দিয়ে রাঙামাটিতে আনা হচ্ছে শুল্কবিহীন অবৈধ সিগারেট। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা বরকল ও জুরাছড়ির দূর্গম সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে পাচার করে আনা অবৈধ সিগারেট দেশীয় ইঞ্জিনবোটে রাঙামাটি শহরে এনে এখান থেকে চট্টগ্রাম পাচার করছে একটি চক্র। মূলত সরকারী বিভিন্ন দিবস এবং বন্ধের দিনগুলোকে বেছে নিয়ে এসব অপকর্মগুলো করছে সিন্ডিকেট চক্র।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি-২৬) দিবাগত রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুভলং আর্মি ক্যাম্পের বিপরীত পাশে কাপ্তাই হ্রদ দিয়ে নৌকা যোগে একদল চোরাচালানকারী রাঙামাটির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় অবৈধ ভারতীয় অবৈধ সিগারেট জব্দ করা। পরবর্তীতে জব্দকৃত মালামাল শুভলং ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়। সংশিষ্ট্য সূত্রমতে জব্দকৃত মালামালের সর্বমোট আনুমানিক মূল্য: ২৬,৬২,০০০/- টাকা (ছাব্বিশ লক্ষ বাষট্টি হাজার টাকা)।
উদ্ধারকৃত অবৈধ সিগারেটগুলোর মধ্যে ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ৬,৫০০ প্যাকেট অরিস, ১০ লাখ টাকার ৪,০০০ প্যাকেট পেট্টোন, ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকার ২,৪৬০ প্যাকেট ইএসএসই।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্তবর্তী ও জলপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিদেশি পণ্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। এসব চোরাচালান কার্যক্রমের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়, স্থানীয় বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপরাধচক্র শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদের মতো বিস্তৃত জলপথ চোরাচালানকারীদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সহজ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই এ ধরনের জলপথে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
রাঙামাটির বরকল থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদককে জানান, এই বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবৈধ পণ্য পরিবহন ও মজুদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সন্দেহজনক কোনো নৌ-যান, পণ্য বা কার্যক্রম সম্পর্কে নিকটস্থ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে ওসি বলেন, প্রয়োজনে আমরা তথ্য প্রদানকারির সকল নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।