আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:৫৫, ২ জানুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হতে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে করাচিতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান। আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ) এই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো এই সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় ‘ব্রেক থ্রু’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন বছরের শুরুতে এই পদক্ষেপ দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক এই সময়ের সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে অনুমোদনের মেয়াদ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন এই অনুমোদনের ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অনুমোদিত রুটের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে। করাচি বিমানবন্দরে বিমানের জন্য ইতোমধ্যে একটি আলাদা স্লট বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে পরিচালনার শর্ত অনুযায়ী, ঢাকা থেকে প্রতিটি ফ্লাইট উড্ডয়নের আগে করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ফ্লাইটের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া অপারেশনাল সমন্বয় ও কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরাসরি এই ফ্লাইট সার্ভিস উভয় দেশের জনগণের জন্য অর্থ ও সময় সাশ্রয়ী হবে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও দুই দেশে বসবাসরত নাগরিকদের যাতায়াত সহজতর হবে। এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান এবং ‘পিপল-টু-পিপল’ কানেক্টিভিটি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার চলতি মাসেই সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছিলেন।
২০১২ সালে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ১৩ বছর পর এই সরাসরি রুট চালুর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে নতুন এক সহযোগিতার ধারা শুরু হলো।
সূত্র: সামা টিভির।