ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:১৬, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
রোজার বাকি আর মাত্র কয়েক দিন বাকি এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। এর মধ্যেই ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ লেবু ও খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মুরগি ও কাঁচা মরিচের দামও। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলছে সবজি ও পেঁয়াজের বাজারে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায় এমন চিত্র।
খিলক্ষেত বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানে বেশি চাহিদা থাকা লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে। এরই সঙ্গে বেড়েছে খেজুরের দাম।
বাজার করতে আসা রাকিব বলেন, ‘রোজা শুরুই হয়নি, এর মধ্যেই লেবুর দাম বাড়তি। রোজায় যদি আরও বাড়ে, তাহলে অন্যান্য পণ্যের দামসহ খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।’
খুচরা বিক্রেতারা জানান, শবে বরাতের দুদিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছরই রোজার আগে লেবুর চাহিদা বাড়ে, তাই দামও বেড়ে যায়। কারওয়ান বাজারের এক লেবু বিক্রেতা বলেন, এ সময় চাহিদা বেশি থাকে, সরবরাহও কমে যায়। তাই দাম একটু বাড়তি।
এদিকে, তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে সবজির বাজারে। প্রতিকেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, মূলা ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।
পেঁয়াজের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বাজার করতে আসা ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজের দাম এখন মোটামুটি ঠিক আছে। যদি এমন থাকে, তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, শবেবরাত উপলক্ষে মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে গরুর মাংস ও মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও যেখানে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে তা বেড়ে ৮০০ টাকা হয়েছে।
সোনালি মুরগির দাম বেড়ে বিভিন্ন জাতভেদে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে উঠেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১৮০ টাকা হয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম এখনো স্বস্তি দিচ্ছে। প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।
তবে মুরগির বাজারে বাড়তি চাপ দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি।
বিক্রেতারা বলছেন, বিয়ে-শাদি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বেড়েছে, তাই দামও বাড়ছে। এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, এ সময় অনুষ্ঠান বেশি থাকে, চাহিদা বেড়ে যায়। তাই দাম একটু বেশি।
বর্তমানে বাজারে কম দামে বিক্রি হয় জাহিদী খেজুর কেজি ২৮০ টাকা। এই খেজুরের দাম সপ্তাহখানেক আগে ছিল ২৫০ টাকার আশপাশে। অন্যান্য ধরনের মধ্যে বরই খেজুর ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, দাবাস ৫০০ টাকা, কালমি ৬০০-৭০০ টাকা; সুক্কারি ৭০০-৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মেডজুল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।