ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

৯ মাঘ ১৪৩২, ০৩ শা'বান ১৪৪৭

জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চায় বিএনপি:তারেক রহমান

প্র্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩:৪৩, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চায় বিএনপি:তারেক রহমান

ছবি :সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত সময়ে দেশের নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, অনেক তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতী জন্মের পর আজও ভোট দেয়ার সুযোগ পাননি। এখন দেশের মানুষ ভোট দিতে চায়, নিজের ভোট নিজে দিতে চায়। বিএনপিও জনগণের সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে চায়। বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এর আগে সিলেট শহরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ ও মৌলভীবাজারের শেরপুরে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। 

শায়েস্তাগঞ্জে দিনের তৃতীয় জনসভায় তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণেই দেশ আজ নানা সংকটে পড়েছে। তিনি বলেন, ভোটের অধিকার নষ্ট হলে জবাবদিহিতা থাকে না, আর জবাবদিহিতা না থাকলে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও বৈষম্য বাড়ে। তিনি হবিগঞ্জের চারটি আসনের প্রার্থীদের জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। হবিগঞ্জ-১ আসনের রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনের ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের আলহাজ্ব জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের সৈয়দ মো. ফয়সলের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চান।  

তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন পর্যন্ত সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই জনগণের ভোটের অধিকার নষ্ট করা না যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে ভোট দখলের নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। প্রবাসী পোস্টাল ভোটসহ বিভিন্ন কৌশলের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দেশের লাখ লাখ শিক্ষিত যুবক বেকার। তাদের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। চা শ্রমিকসহ সব পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ন্যূনতম জীবনযাপন নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, ধর্মীয় খাতের সঙ্গে জড়িতদের অবদান রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি কার্ড চালু করা হবে।

জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, যারা ৭১ সালে দেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের মানুষ আগেই দেখেছে। নতুন করে দেখার কিছু নেই। যারা নির্বাচনের আগে বিকাশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন তিনি। 

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে ন্যায়পরায়ণতার নির্বাচন। এই নির্বাচন হবে জনগণের নির্বাচন। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে সরকার গঠিত হলে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। জনসভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক মেয়র জিকে গউছ, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও হবিগঞ্জ-২ আসনের ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আলী মুকিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার শিফা ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সাল। 

এরআগে, বুধবার রাতে স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছান তারেক রহমান। তিনি হযরত শাহ জালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর কবর জিয়ারত করেন। পরে দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। 

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন