ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২:৪০, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের নির্বাচনী এজেন্টদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
মানুষের চলাফেরা সুনিশ্চিত ও নির্বিঘ্ন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব বললেন জামায়াতের প্রচার ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলেন তিনি।
মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, আমাদের এজেন্টদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাদের দেখে নেয়া হবে বা লাঞ্ছিত করা হবে—এই ধরনের তথ্য আমরা পাচ্ছি। বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ইলেক্টোরাল কমিটিকে বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ থেকেই সাধারণ মানুষ গ্রামের দিকে যাচ্ছেন। পথে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। কিছু অসৎ ব্যবসায়ী অস্বাভাবিক ভাড়া নিচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে ইচ্ছা করে যানজট বা বাধা তৈরি করা হচ্ছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি, এগুলোর জন্য অভিযোগের অপেক্ষা করার দরকার নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের চলাফেরাকে সুনিশ্চিত ও নির্বিঘ্ন করা। এটি তাদের রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত দায়িত্ব।’
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের আসন ঢাকা-১৫ এ মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের নামেই তারা কিছু ফটোকার্ড বা লিফলেটের মতো প্রিন্ট করে বিভিন্ন জায়গায় দিচ্ছে। জামায়াত নাকি ভোটারদের টাকা-পয়সা দিচ্ছে বা দেবে, এর জন্য বিকাশ নম্বর চাওয়া হচ্ছে। এইভাবে লিফলেট ছড়িয়ে আমাদেরকে বিতর্কিত করা এবং ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। এটি সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। আমাদের পক্ষ থেকে এমনটা করার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানাবেন জানিয়ে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো এসব বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া। এটি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার একটি মারাত্মক ধরনের অপপ্রয়াস। জামায়াত আমিরের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে টার্গেট করে এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রশাসন এবং ইসিকে এ ব্যাপারে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছি।’
ভোটকেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা কম বেশি রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বডি ওর্ন ক্যামেরার একটি পরিসংখ্যান আমরা পর্যালোচনা করে দেখলাম, এটি অত্যন্ত বৈষম্যমূলক। কিছু কিছু আসনে অনেক বডি ক্যামেরা দেয়া হয়েছে, আবার কিছু আসনে নেই বললেই চলে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে জামায়াত বা ১১ দলের প্রার্থীরা রয়েছেন সেখানে বডি ক্যামেরা বেশি কেন? আর যেখানে অন্য দলের প্রার্থীরা রয়েছেন সেখানে কম কেন? এর অর্থ কি বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাস করার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।’
নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য পুলিশের সঙ্গে বডি ক্যামেরা রাখার বিষয়ে জামায়াত প্রথম থেকে দাবি করে আসছিল জানিয়ে জুবায়ের বলেন, ‘আমরা বলেছি প্রত্যেকটি সেন্টারে সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে। যদিও এই দাবি আমরা বারবার দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো উদ্যোগ তারা নেননি। বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার এই অস্বাভাবিক স্বল্পতা নির্বাচনের জন্য অন্তরায়। সন্ত্রাসীরা যাতে সুযোগ বুঝে সন্ত্রাস করতে না পারে এবং কোনো অঘটন ঘটালে তার রেকর্ড যাতে থাকে, সেটি নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বডি ক্যামেরা এবং সিসি ক্যামেরা প্রত্যেকটি সেন্টারে থাকা একান্ত প্রয়োজন।’
ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইনের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক যারা আসছেন তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। জানতে চাইছেন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি না এবং সেখানে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা কী হবে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তারা প্রশ্ন করেন। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে এই বিষয়গুলো তাদের কাছে স্পষ্ট করেছি। আওয়ামী লীগ সরকারের অতীত নির্বাচনের চিত্র এবং বর্তমানে তারা যেভাবে হুমকির পরিবেশ তৈরি করছে, সেটিও আমরা পর্যবেক্ষকদের জানিয়েছি। জনগণের সংশয় ও সন্দেহ দূর করে একটি ভীতিকর পরিবেশ মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’