ঢাকা, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৮ মাঘ ১৪৩২, ২২ শা'বান ১৪৪৭

 ঝালকাঠিতে দুই প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন  

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩:৫৮, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

 ঝালকাঠিতে দুই প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন  

ছবি:বাংলার চোখ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা বাজারে জামায়াতে ইসলামীর অফিসে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা জামায়াতের অফিসে আয়োজন জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির কবির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী প্রতিহিংসার জেরে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে অফিসে আগুন দিতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। অপর দিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নে দাড়িপাল্লার দুই কর্মীর দোকান পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

তবে রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বলেন তিনি।

ঘটনায় অফিসের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঝালকাঠি-১ আসনের জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. ফয়জুল হক অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দুদিন বাকি, এই মুহূর্তে সাধারণ নির্ভর ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই বিএনপির প্রার্থীর লোকজন এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। যাতে করে সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত শঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রশাসনের উচিত শক্ত হাতে এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা। নির্বাচনের দুদিন বাকি, এই মুহূর্তে সাধারণ নির্ভর ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই বিএনপির প্রার্থীর লোকজন এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। যাতে করে সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত শঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রশাসনের উচিত শক্ত হাতে এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা। 

অপর দিকে ঝালকাঠি-২ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন অফিস, বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার বিকেলে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সামনে রেখে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করে নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমের সমর্থকদের অফিস, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ সময় বক্তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়। কিন্তু বারবার এ ধরনের হামলা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
জামায়াতের প্রার্থী বলেন, দাঁড়িপাল্লা একটি শান্তির প্রতীক। নির্বাচনের সময় যতোই ঘনিয়ে আসছে, ততই দাঁড়িপাল্লার বিজয় সুনিশ্চিত হচ্ছে। এটা দেখে প্রতিপক্ষরা নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাঁরা বিশেষ করে নারী ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না যায়, সেজন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন, কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দিচ্ছে। এসব করে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে তাঁরা। 
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট বিএম আমিনুল ইসলাম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল হাই, এবি পার্টির নেতা শেখ জামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন