প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭:০৯, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা। এই হাজতখানায় আয়োজন করা হয় কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা দুই আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতার ‘বেয়াইখানা’ (বর ও কনের বাবার ভূরিভোজ)। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
কারাগারে থাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আ জ ম পাশা চৌধুরী ও হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাইফ উদ্দিন আহমদের কারাগার থেকে আদালতে হাজিরার দিন হাজতখানায় এ আয়োজন করা হয়। তাদের মেয়ে ও ছেলে একে অপরের সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর এ অনুষ্ঠান করা হয়। হাজতখানায় এমন আয়োজন মূলত নারী আসামিদের জন্য বরাদ্দ জায়গায় হওয়ায় বিষয়টি তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা গণমাধ্যমকে জানান, ওই কক্ষটি নিজেদের পোশাক পরিবর্তন, খাওয়া, নামাজসহ নারী আসামিদের বাচ্চাদের দুগ্ধপানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সোমবার পুলিশের সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভুইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন (নম্বর ৬৩৬), মো. হাসান (৩৪০) ও সাইফুল ইসলাম (২২০)।
এ বিষয়ে এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চিফ জুড়িসিয়াল ও জজ আদালতের দুই হাজতখানায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিউটি বণ্টন করে আমি ওইসময় আদালতের কাজে ওপরে ছিলাম। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন,ঘটনাটি জানার পর আমি সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো অনিয়ম আদালত পাড়ায় না হয়, সেজন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আ জ ম পাশার বিরুদ্ধে সাত ছাত্রশিবির কর্মীকে গুলি করে হত্যার মামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে, এবং ছাইফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা দায়ের রয়েছে।
এই ঘটনা হাজতখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের অবহেলা ও অনিয়মের দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে জেলা পুলিশ।