স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:৪৭, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
শেষ বলে জয় তুলে নিলো চট্টগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরে রোমাঞ্চর এক লড়াইয়ের সাক্ষী হলো সিলেটের দর্শকরা। ছোট পুঁজি নিয়েও চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়েছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তবে তাদের জয়ের স্বপ্নে চুরমার করে চট্টগ্রামকে রুদ্ধশ্বাস এক জয় উপহার দেন হাসান নাওয়াজ।
সিলেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহীকে ২ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। ১২৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ইনিংসের শেষ বলে জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম। ৩৬ বলে ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংসকে দলকে হার থেকে বাঁচান নাওয়াজ। ১৮ রান খরচায় রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন বিনুরা ফার্নান্দো।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজশাহীর বোলারদের তোপে মাত্র ২৮ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল চট্টগ্রাম। ১৫ বলে ১৭ রান করে অ্যাডাম রসিংটন, ৩ বলে ৪ রান করে মাহমুদুল হাসান জয়, ৭ বলে ৭ রান করে মোহাম্মদ নাঈম আর শূন্য রানে বিদায় নেন সাদমান ইসলাম। নাওয়াজকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে বিপর্যয় সামাল দেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ রান করে দলীয় ৬৮ রানে বিদায় নেন মেহেদী। এরপর নাওয়াজকে নিয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন আসিফ আলী। কিন্তু ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৭ রান করে ১৭তম ওভারে আসিফ বিদায় নিলে ফের চাপে পড়ে চট্টগ্রাম।
পরের দুই ওভারে আমের জামাল (৮) ও আবু হায়দারকে (১) আউট করে জয়ের আশা জাগায় রাজশাহী। তবে একপ্রান্ত আগলে রাখা নাওয়াজ সব সামলে নেন। শরিফুল ইসলামের সঙ্গ নিয়ে শেষ ওভারে ১০ রান তুলে দলকে জয় উপহার দেন। যদিও প্রথম তিন বলে ৮ রান তোলার পর, চতুর্থ ও পঞ্চম বল ডট দিয়ে ভয়ের সঞ্চার করেছিলেন তিনি। শেষ বলে ১ রানে আটকাতে পারলেও সুপার ওভারের সুযোগ পেতো রাজশাহী। তবে সুযোগ রাখেননি নাওয়াজ। প্রয়োজনীয় ২ রান নিয়েই নিশ্চিত করেন জয়। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ২ চারের মারে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংস টি-টোয়েন্টি সুলভ না হলেও দলের জয়ের জন্য ছিল সবচেয়ে কার্যকরী। তাই ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হন তিনি।
রাজশাহীর পক্ষে বিনুরা ছাড়াও উইকেটের দেখা পেয়েছেন এসএম মেহেরব, রিপন মন্ডল, তানজিম হাসান সাকিব ও সন্দ্বীপ লামিচানে। মেহেরব ২টি আর বাকিরা ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামের বোলারদের তোপে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৮ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিল রাজশাহী। দলের কেউই ২০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। সর্বোচ্চ ১৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুহাম্মদ ওয়াসিম ও এসএম মেহেরব। চট্টগ্রামের হয়ে ২৩ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন জামাল। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তানভীর ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম। এছাড়া ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান ও নাওয়াজ।
এ জয়ে ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও পোক্ত করলো চট্টগ্রাম। ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে চারে রাজশাহী।