আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:৪৭, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
মাদুরোর হাতে হাতকড়া ও চোখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে বসে থাকা ছবি সংগৃৃহীত
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনার পর ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।
হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে অবস্থানকালে একটি আলাদা কক্ষে বসে একাধিক স্ক্রিনের সামনে পুরো অভিযানটি পর্যবেক্ষণ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাইভ আপডেটসহ বিভিন্ন তথ্যসূত্র একযোগে পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নিকোলাস মাদুরোর বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন। এটি ছিল কয়েক মাস ধরে চলা গোপন প্রচেষ্টার চূড়ান্ত ধাপ, যার উদ্দেশ্য ছিল মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া।
সূত্র জানায়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হলেও পরে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় নির্ধারিত সময়ে অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে অভিযানের সাফল্যের পর তিনি ঘোষণা দেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এটা ঠিক টেলিভিশন দেখার মতো ছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের এই অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয় গত আগস্টে। সে সময় সিআইএর একটি ছোট দল ভেনেজুয়েলার ভেতরে গোপনে কাজ শুরু করে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল মাদুরোর অবস্থান, চলাচল ও নিরাপত্তা কাঠামো সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা তৈরি হয় এবং একাধিক সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থা একযোগে এতে অংশ নেয়।
এই ঘটনার পর মার্কিন কংগ্রেসে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সিনেটর অভিযোগ করেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আগে কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন যে ভেনেজুয়েলায় শাসন পরিবর্তনের কোনো লক্ষ্য নেই—যা এখন ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
নিউ জার্সির সিনেটর অ্যান্ডি কিম সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, আমাদের বলা হয়েছিল এটি শাসন পরিবর্তনের জন্য নয়। এখন দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, মাদুরোকে সরে যাওয়ার জন্য একাধিকবার ‘উদার প্রস্তাব’ দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষায়, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, আর তার ফলই আমরা দেখেছি।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চায় এবং প্রয়োজনে সেখানে আরও সেনা মোতায়েনের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
মাদুরো আটক হওয়ার পর রাজধানী কারাকাসে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় দোকানপাট ও জরুরি সেবাকেন্দ্র বন্ধ দেখা যায়। কে দেশ পরিচালনা করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’—সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই অভিযানকে ‘নৃশংস হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।